আমার নামের বানানে একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল আছে, সাইদুর এর 'ই'-টি আসলে 'ঈ' হওয়া উচিত ছিলো। নামটি আরবী, বাংলা বর্ণ দিয়ে সব আরবী ধ্বনি সঠিকভাবে উচ্চারন সম্ভব নয়, তবু উচ্চারনের কাছাকাছি যেতে গেলে 'ঈ' ব্যবহার করলে বেশি উপযুক্ত হতো। নবম শ্রেনীর পাঠ শুরু হওয়া পর্যন্ত আমার নাম ছিলোও 'ঈ' দিয়ে। কিন্তু শিক্ষাবোর্ডের নিবন্ধনের সময় আমাদের শিক্ষকরা আমাদের হাতে ফর্মগুলো পূরণ করার জন্য না দিয়ে নিজেরাই পূরণ করেছেন, কেউ কাটাছেড়া করে ফর্ম নষ্ট করবে ভেবেই হয়তো। দুর্ভাগ্যক্রমে আমার ফর্মটি যিনিই পূরণ করে থাকুন, আমাকে 'সাইদুর' বানিয়ে পাঠিয়ে দিলেন। নিবন্ধন কার্ডটি যখন হাতে পেলাম তখনই দেখলাম এই বিভ্রাট। আমার বাবা দেখতে পেলে তখনই এটা নিয়ে পাড়া মাথায় তুলতেন, এবং ঠিক করিয়েই ছাড়তেন। কিন্তু কেন যেন বাবাকে জানানো হয়নি ভুলটির কথা। বাংলার সাথে মিল রাখার জন্য ইংরেজি থেকেও একটি e বাদ দিয়ে ফেললাম।
বাংলা রচনায় প্রায়ই আমাদের অনেক ইংরেজী শব্দ বাংলায় বানান করে দিতে হয় যুৎসই বাংলা প্রতিশব্দের অভাবে বা অন্য কোন কারণে। অনেক ক্ষেত্রেই বানানটি করা সহজ, যেমন call কে 'কল', tough কে 'টাফ'। কিন্তু কখনো কখনো, বানানের সময় বাংলা কোন ধ্বনিটি ব্যবহার করতে হবে তা দ্ব্যর্থহীন মনে হয় না, যেমন America কি 'এমেরিকা', 'অ্যামেরিকা', না 'আমেরিকা'?
এ নিয়ে আগে দুটি পর্ব লিখেছিলাম -
ইংরেজী শব্দের বাংলা বানানঃ এ বনাম আ
ইংরেজী শব্দের বাংলা বানানঃ অ বনাম ও
এবারের পর্বটি শুধুমাত্র ইংরেজী ai এবং শব্দের শেষে a(consonent)e দিয়ে যে উচ্চারন তাকে নিয়ে। কারণ এই দুটি স্বরসমষ্টি অঞ্চলভেদে অনেকটা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে উচ্চারিত হয়। এ পর্বে কোন উচ্চারনরীতি দেখাবো না, বাংলায় বহুল প্রচলিত কয়েকটি ইংরেজী শব্দ ও তাদের বাঙলা বানান বিষয়ে আলোচনা দিয়েই শেষ করবো।
বাংলা রচনায় প্রায়ই আমাদের অনেক ইংরেজী শব্দ বাংলায় বানান করে দিতে হয় যুৎসই বাংলা প্রতিশব্দের অভাবে বা অন্য কোন কারণে। অনেক ক্ষেত্রেই বানানটি করা সহজ, যেমন call কে 'কল', tough কে 'টাফ'। কিন্তু কখনো কখনো, বানানের সময় বাংলা কোন ধ্বনিটি ব্যবহার করতে হবে তা দ্ব্যর্থহীন মনে হয় না, যেমন America কি 'এমেরিকা', 'অ্যামেরিকা', না 'আমেরিকা'? এ নিয়ে গত পর্বে লিখেছিলাম ইংরেজী শব্দের বাংলা বানানঃ এ বনাম আ। এবার চেষ্টা করছি 'অ' এবং 'ও' ধ্বনি দিয়ে বানান বিষয়ে।
অ------------------------------------------
শুধু o দিয়ে যেসব ইংরেজী শব্দ তাদের উচ্চারণ হয় 'অ'। যেমনঃ
bottom (বটম)
cot (কট)
dog (ডগ)
mop (মপ)
blog (ব্লগ)
moderator (মডারেটর)
বাংলা রচনায় প্রায়ই আমাদের অনেক ইংরেজী শব্দ বাংলায় বানান করে দিতে হয় যুৎসই বাংলা প্রতিশব্দের অভাবে বা অন্য কোন কারণে। অনেক ক্ষেত্রেই বানানটি করা সহজ, যেমন call কে 'কল', tough কে 'টাফ'। কিন্তু কখনো কখনো, বানানের সময় বাংলা কোন ধ্বনিটি ব্যবহার করতে হবে তা দ্ব্যর্থহীন মনে হয় না, যেমন America কি 'এমেরিকা', 'অ্যামেরিকা', না 'আমেরিকা'? 'এ', 'অ্যা' ও 'আ' বিপত্তি নিয়ে কিছু লিখার চেষ্টা করছি, যাদের ভাষা তাদের উচ্চারনরীতি থেকে ধার করে।
ইংরেজী A-র উচ্চারণ 'য়্যা' এবং 'আ' উভয় ধ্বনিরই ব্যবহার আছে, তবে 'আ' এর ব্যবহার খুবই সীমিত এবং proper noun এর ক্ষেত্রে এ ব্যবহারটি বেশি দেখা যায়। যেমন-
(আগের পর্বের ধারাবাহিকতায় রচিত। আগের পর্বটি পড়া না থাকলে এ পর্বটি বোধগম্য নাও হতে পারে।)
আগের পর্বের লিংকঃ জাতীয় পতাকার রং কি? জরীপ ও উপসংহার - পর্ব ১(২)
এতো গেল কাপড়ের পতাকার জটিলতা। কাগজের পতাকা বা পত্র-পত্রিকায় পতাকা ছাপানোর ক্ষেত্রে কি করতে হবে? ছাপার রং (কালি) কাপড় রঙাবার রং থেকে একেবারেই ভিন্ন। তাদের শেডের নামও ভিন্ন। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদনকারীও ভিন্ন। ক্যানভাস বা মুরেলে পতাকা আকতে গেলে কি করতে হবে? তুলির রং (পেইন্ট) কাপড় বা ছাপার রং থেকে ভিন্ন, শেডের নাম বা উৎপাদনকারীও হয়তো ভিন্ন। কাজেই ছাপা বা আঁকার ক্ষেত্রে পতাকা বিধি থেকে প্রত্যক্ষ কোন সাহায্য / নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে না।
এবার আসি ডিজিটাল আর্ট ফর্মে। ডিজিটাল আর্ট ফর্ম সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি জগত। এখানে রংয়ের সঙ্গাই ভিন্ন। এত কিছু বলেছি, এ বিষয়টি না বললে পাঠকের প্রতি অবিচার করা হবে। রংয়ের দুটি জগৎ আছে - একটি রঞ্জক সম্পর্কিত (pigment), অন্যটি আলোক (optics) সম্পর্কিত। দুই জগতের দুই নিয়ম, বিপরীত নিয়ম। রঞ্জকের জগতে সকল মৌলিক রং মেশালে মিশ্রণের রং হয় কালো, আলোকের জগতে সকল মৌলিক রং মেশালে মিশ্রণের রং হয় সাদা। রঞ্জকের জগতে রঞ্জক যোগ করলে রং গাঢ় হতে থাকে, আলোকের জগতে আলোক যোগ করলে রং ফিকে হতে থাকে। ডিজিটাল আর্ট ফর্ম আলোকের জগতের বাসিন্দা, যতক্ষণ না তাকে প্রিন্ট করছি, প্রিন্ট করলেই সে চলে গেল রঞ্জকের জগতে। কম্পিউটার মনিটরে যে রং আমরা দেখি তা আলোক ছাড়া আর কিছুই না। লাল, সবুজ আর নীল (RGB) এই তিনটি মৌলিক রং দিয়ে বিশ্বের যাবতীয় রং সৃষ্টি (সাত রংয়ের ব্যাপারটি প্রাচীন ধারণা)।
বিভিন্ন রকমের সবুজ রং ব্যবহার করে তৈরী জাতীয় পতাকার ৬টি গ্রাফিক্স দেখিয়ে গতকাল জরীপঃ জাতীয় পতাকার রং সঠিক জানেন কি? শিরোনামে একটি জরীপ চালিয়েছিলাম। সহব্লগারদের অনুরোধ করেছিলাম ৬টির মধ্যে যে রংটিকে সঠিক বলে মনে হয়, তা চিহ্নিত করে দিতে। সুখের বিষয় দুএকজন ছাড়া বাকী প্রায় সবাই যে গ্রাফিক্সটির পক্ষে মতামত দিয়েছেন, অর্থাৎ ৬ নম্বর, সেটিই আমাদের জাতীয় পতাকার অনেকটা কাছাকাছি রং। 'কাছাকাছি' এ জন্য বলছি যে, প্রকৃত রং কোনটি তা নিশ্চিত করে বলা এখন আর কারো পক্ষেই সহজ নয়।
একটু আগে আগে জাতীয় পতাকা সম্পর্কিত ও পতাকার ছবি সম্বলিত দুটি পোস্ট পড়ে এসেছি। পোস্ট দুটি হোল, শেখ নজরুলের আসুন অনড় পায়ে এখনই তাঁকে সালাম জানাই এবং নীরব পথিকের একটি বিজয় নিশান চাই......."। লেখার জন্য দুজনকেই আমার অভিনন্দন।
লেখাগুলোতে ব্যবহৃত জাতীয় পতাকা দুটি দেখে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে, আমরা কতজন জানি আমাদের জাতীয় পতাকার সঠিক রং কি। লেখকদ্বয় আমাকে ভুল বোঝার আগেই আমি বলে নিতে চাই, তাদের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই আমি এ পোস্টটি দিচ্ছি। আমি ধরে নিচ্ছি তাদের দুজনের কেউই পোস্টে ব্যবহৃত পতাকার গ্রাফিক্স নিজে তৈরী করেননি, কোথাও হতে সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু এটি নিশ্চিত যে কোন না কোন বাংলাদেশী গ্রাফিক্স দুটির স্রষ্টা। উপরে যে পতাকাটি দেখছেন তা নিরব পথিকের পোস্টে ব্যবহৃত পতাকার আলোছায়া দুর করে পাওয়া রং। আর ঠিক নিচের পতাকাটি শেখ নজরুলের ব্যবহৃত প্রাফিক্সের পূনঃসৃষ্টি।
গতকাল এ বিষয়ক একটি লেখা দিয়েছিলাম, কোরবানীর বিভৎসতা(?) ও পশ্চিমা সমাজের পশুপ্রেম। আরো কিছু তথ্য ও ছবি সংযুক্তির ইচ্ছা থাকলেও লেখাটির কলেবর ছোট রাখার জন্য তা আর দেইনি। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে গতকালের লেখাটি বিপুল সংখ্যক পাঠককে আকৃষ্ট করেছে। হিট কাউন্টারের তথ্য অনুযায়ী লেখাটির ইউনিক ভিজিটর সংখ্যা আমার অন্য যে কোন লেখার প্রায় দ্বিগুনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যাঁদের অনেকেই হয়তো কেবলই পাঠক। যাঁরা ব্লগার তাঁদেরও অনেকেই মন্তব্য লিখে আমাকে উৎসাহিত করেছেন। তাই আমার মনে হোল যে অংশটুকু গতকালের লেখা থেকে ছেঁটে ফেলেছিলাম, নুতন একটি পোস্টের আকারে তা দিয়ে দিলে বিপুল সংখ্যক পাঠকের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতাটুকু ঠিকঠাক প্রকাশ পাবে।
সুপ্রিয় ব্লগার ও পাঠক,
ঈদ মোবারক। আপনাদের ঈদের দিনটি ভালো কেটেছে আশা করি। মুসলিমদের ঘরে ঘরে নিজের বা অন্যের কোরবানীর পশুর মাংসও মজা করে খাওয়া দাওয়া হচ্ছে নিশ্চয়ই। দুর বিদেশে নিজে যে আনন্দে অংশগ্রহন করতে পারছিনা, আপনাদের আনন্দের কথা ভেবে তা ভুলে থাকারও চেষ্টা করছি।
আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়ত আছেন, যাদের হৃদয় অতি কোমল, তারা কোরবানীর পশু জবাইয়ের দৃশ্য সহ্য করতে পারেন না। এমনও কেউ কেউ আছেন, যারা মাংস সামনে দেখলে অসহায় পশুটির কথা মনে করে তা আর খেতেও পারেন না। অন্যের কথা বলি কেন, আমার নিকটাত্মীয়ের মধ্যেই এরকম দু'একজন আছে। এই কোমলমতি মানুষগুলোকে আপতত সহানুভূতি জানান ছাড়া আর কি করতে পারি ভেবে পাইনা। মনের ভেতর তাদের জন্য একধরনের ভালবাসা অনুভব করি।
Copyright 2010 সাইদুর রহমান চৌধুরী
Theme designed by Lorelei Web Design
Blogger Templates by Blogger Template Place | supported by One-4-All